সত্যের সাথে সবসময়

বাংলাদেশ সাংবাদিকতায় ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ

সাংবাদিকতায় ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ

newsraatdin24_ ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব

সালাম মাহমুদ : বাংলাদেশের আলোকচিত্র সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল নক্ষত্র আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ একজন পরিপাটি মানুষ। পরিবার, পেশাগত অঙ্গঁনসহ সামাজিক পরিমন্ডলে প্রিয় তিনি। নুরুদ্দিন আহমেদ-এর জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৫ আগষ্ট ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম আলহাজ আবদুল মান্নান এবং মাতা মরহুমা রমন বিবি’র ৪ পুত্র ২কন্যা সন্তানের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ ভাইদের মধ্যে তৃতীয়।


প্রখর মেধাবী নুরুদ্দিন আহমেদ স্কুল কলেজে পড়াশোনা শেষে যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পার্সোনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ফটো সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, মিশর, পকিস্তান, ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালেয়শিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, অ্যামেরিকা, জাপান, ইয়ামেন, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, জর্ডান, চীন, তুরস্ক, মায়ানমার, কানাডা, ইতালী, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া সফর করেন।


দূরদর্শী ও ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব নুরুদ্দিন আহমেদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচবার সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের শিল্প খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব নুরুদ্দিন আহমেদ এনটিভি’র পরিচালক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি বীমা খাতের ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর পরিচালক হিসেবে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।


দেশ বরেণ্য সাংবাদিক নুরুদ্দিন আহমেদ ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর পৃষ্ঠপোষকা উল্লেখযোগ্য। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের স্থায়ী সদস্য, সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগের কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, জনাব আহমেদ এর সক্রিয় ভূমিকার জন্য শুধু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, সানরাইজ স্পোর্টিং ক্লাবই নয় দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে।


এখানেই শেষ নয়; জনাব নুরুদ্দিন আহমেদ এর সাংগঠনিক বিস্তৃতি আরো অনেক। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র দর্শক ফোরামের সভাপতি। সার্কভূক্ত দেশ সমূহের অন্যতম সাংবাদিক সংগঠন -‘সার্ক জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সম্মানিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আলহাজ্ব নুরুদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন ধর্মীয়, পেশাজীবী ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের যেমন দু’হাত উজাড় করে সমর্থন দিয়েছেন, তেমনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো তাঁকে সাম্মানিত করেছে বিভিন্ন পদক, প্রশংসাপত্র ও পুরস্কার দিয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত সার্ক গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৪ ফটো সাংবাদিকতায় ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। এছাড়াও তাঁর কর্মক্ষেত্রের ব্যাপক বিচরণ এর স্বীকৃতিস্বরূপ ফটো সাংবাদিকতায় কুরআন শিক্ষা মিশন বাংলাদেশ সম্মাননা পদক ২০০৯, শহীদ জিয়াউর রহমান স্মৃতি পুরস্কার ২০১০, গ্লামার মিডিয়া পুরস্কার ২০০৬, বিপিএস বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি সোসাইটি পুরস্কার ২০০৬, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পুরস্কার ২০০৮ এবং ২০১০, শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার পুরস্কার ২০০৩। ৫০ বৎসরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সূবর্ণ জয়ন্তী ২০০৪ আলোকচিত্র প্রদর্শনী পুরস্কার, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) থেকে ১৯৯৬ সালে জিয়া স্বর্ণপদক, শেরেবাংলা সাংস্কৃতিক পুরস্কার ২০০৮, ফটো সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ‘ললিতকলা একাডেমী কর্তৃক স্বর্ণপদক পুরস্কার’, এবং ২০০৯ সালে সেলিব্রিটি অ্যাওয়ার্ড সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশন সিবিএ পুরস্কার, জাতীয় সাংস্কৃতিক মৈত্রী স্বর্ণপদক পুরস্কারসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা অর্জন করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার ওস্তাদ জাহাঙ্গীর রিসোর্ট মিলনায়নে তিনি বাংলাদেশ পর্যটন বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃক লাইফটাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।


সদালাপী, বন্ধুবৎসল, ধর্মভীরু, সজ্জন, সমাজ ও সংস্কৃতি মনস্ক এবং ডায়নামিক উদ্যোক্তা নুরুদ্দিন আহমেদ দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান মন্দা, যুদ্ধাবস্থা বিরজমান থাকায় দেশের অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। তদুপরি বিগত হাসিনা সরকারের আমলে ১৬ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ থেকে উত্তোরণের জন্য উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যারা লুটেরা, যারা দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া ঠিক হবে না।


দেশে উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের যে খারাপ ভাবমূর্তি দাঁড়িয়েছে তা থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং এ অঙ্গনে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করতে পারবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন