মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ভাইয়ের সঙ্গে এক দুপুরের পরিচয়
কিছু মানুষ কথা দিয়ে পরিচিত হন, আর কিছু মানুষ কথা বলার আগেই নিজের উপস্থিতি দিয়ে পরিচয় তৈরি করে ফেলেন। তাদের চোখে থাকে স্বপ্ন, আচরণে থাকে ব্যক্তিত্ব, আর মানুষের সঙ্গে মেলামেশায় ফুটে ওঠে ভেতরের মানুষটি।নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু তেমনই একজন মানুষ।
তাকে প্রথম দেখায় আমার মনে হয়েছে, তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি স্বপ্ন দেখতে জানেন। আর যে মানুষ নিজের জনপদকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, তার চোখের ভাষাতেও সেই স্বপ্নের কিছুটা ধরা পড়ে।
সেদিন তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু অল্প সময় কখনো কখনো মানুষের সম্পর্কে এমন কিছু অনুভূতি দিয়ে যায়, যা দীর্ঘ আলাপেও পাওয়া যায় না।
দিনটি ছিল ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
দুপুরে Newsraatdin24-এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি আলহাজ্ব মো. বুলবুল ইসলাম আমাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন দিপু ভাইয়ের মতিঝিলের অফিসে। পরিচয় হলো। কথা হলো। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম।
সাক্ষাৎটি ছিল সহজ, স্বাভাবিক এবং আন্তরিক।
কোনো দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। ছিল একজন জনপ্রতিনিধি ও একজন সাংবাদিকের মধ্যে একটি সরল পরিচয়ের মুহূর্ত।
কিন্তু সেই মুহূর্তের মধ্যেই আমি যে মানুষটিকে দেখলাম, সেটিই আমাকে এই লেখা লিখতে বসিয়েছে।
চোখ অনেক কথা বলে মানুষের চোখের দিকে তাকালে অনেক সময় এমন কিছু বোঝা যায়, যা মুখে বলা হয় না।
কথা বলার সময় দিপু ভাইয়ের চোখের অভিব্যক্তি, মুখের এক্সপ্রেশন এবং মানুষের সঙ্গে তার স্বাভাবিক আচরণ আমাকে ভাবিয়েছে।
তিনি একজন সংসদ সদস্য। তার রাজনৈতিক পরিচয় আছে, দায়িত্ব আছে, মানুষের প্রত্যাশা আছে। কিন্তু এসব পরিচয়ের বাইরে একজন মানুষ হিসেবেও তাকে জানার সুযোগটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
আমার মনে হয়েছে, তার মধ্যে একজন স্বপ্নবাজ মানুষের উপস্থিতি আছে।
রূপগঞ্জকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা তার ভাবনায় রয়েছে। একটি জনপদকে আরও সুন্দর, আধুনিক ও মানুষের প্রত্যাশার উপযোগী করে গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিই তাকে আমার কাছে আলাদা করে তুলেছে।
তাই ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকেই তাকে বলেছি— ‘স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার কারিগর।’ কারিগর শব্দটি আমার কাছে খুব প্রিয়।
কারণ কারিগর শুধু স্বপ্ন দেখেন না, তিনি হাত লাগান। অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একটি সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য পরিশ্রম করেন।
একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রেও আমি সেই অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করেছি।
একজন এমপির বাইরে একজন মানুষ আমাদের সমাজে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব অনেক সময় তৈরি হয় পদ ও প্রটোকলের কারণে। কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয় অন্য জায়গায়। সেখানে পদমর্যাদা নয়, ব্যবহারই বড় হয়ে ওঠে।
দিপু ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে সেই সহজ মানুষটিকেই অনুভব করেছি।
তার সঙ্গে কথা বলার সময় মনে হয়নি, আমি কোনো দূরের মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। বরং মনে হয়েছে, একজন পরিচিত বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসে কথা বলছি।
হয়তো এ কারণেই অল্প সময়ের পরিচয়ও মনে জায়গা করে নিয়েছে।
একটি সেলফি, একটি ছোট্ট আনন্দ
আমার বরাবরই একটি ছোট্ট শখ আছে।
যেসব মানুষকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি, যাদের কাজ, ব্যক্তিত্ব কিংবা অবস্থান আমাকে আকৃষ্ট করে, তাদের সঙ্গে ছবি তুলে রাখতে ভালো লাগে।
ছবিকে আমি শুধু ছবি হিসেবে দেখি না।
ছবি আমার কাছে সময়কে ধরে রাখার একটি উপায়।
সেদিন দিপু ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়, কথাবার্তা ও দুপুরের খাবারের পর যখন বিদায়ের সময় হলো, তখন তিনি নিজেই সেলফি নিলেন।
সত্যি বলতে কী, দিপু ভাইয়ের সঙ্গে একটি ছবি তোলার ইচ্ছা আমার নিজেরও ছিল।
সেই ইচ্ছেটা পূরণ হয়ে গেল খুব স্বাভাবিকভাবেই।
একটি ছোট্ট মুহূর্ত।
কিন্তু আমার কাছে আনন্দের।
কারণ জীবনের সব স্মৃতি বড় কোনো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় না। অনেক স্মৃতি তৈরি হয় এমনই ছোট ছোট মুহূর্তে।
একটি ছবি, কয়েকটি কথা, একটি হাসি, একটি আন্তরিক আচরণ।
তারপর অনেক দিন পর সেই ছবিটির দিকে তাকিয়ে মনে হয়, ‘হ্যাঁ, সেই দিনটির কথা মনে আছে।’
পরিচয় হয়তো হঠাৎ, স্মৃতি নয় হঠাৎ দেখা হয়েছিল। পরিচয়ও হয়েছিল অপ্রত্যাশিতভাবে।
কিন্তু সব হঠাৎ দেখা মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নেয় না।
কিছু সাক্ষাৎ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। আবার কিছু সাক্ষাৎ খুব অল্প সময়ের হয়েও মনে থেকে যায় দীর্ঘদিন।
দিপু ভাইয়ের সঙ্গে আমার সেই সাক্ষাৎটি দ্বিতীয়টির মতো।
কারণ সেখানে আমি শুধু একজন সংসদ সদস্যকে দেখিনি।
আমি দেখেছি একজন স্বপ্নবাজ মানুষকে।
দেখেছি একজন জনপ্রতিনিধিকে, যিনি নিজের জনপদকে নিয়ে ভাবতে চান।
দেখেছি এমন একজন মানুষকে, যার চোখের ভাষায় কিছু স্বপ্নের আভাস পাওয়া যায়।
আর সবচেয়ে বড় কথা, দেখেছি একজন মানুষের স্বাভাবিক মানবিক আচরণ।
আবার দেখা হবে ৬ সেপ্টেম্বরের সেই দুপুর হয়তো দিপু ভাইয়ের ব্যস্ত জীবনের অসংখ্য দিনের একটি সাধারণ দুপুর।
কিন্তু আমার কাছে সেটি হয়ে থাকবে একটি বিশেষ স্মৃতি।
একজন স্বপ্নবাজ সংসদ সদস্যের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি।
একজন মানুষের চোখে নিজের জনপদকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করার স্মৃতি।
আর একটি সেলফিতে আটকে থাকা একটি সুন্দর দুপুরের স্মৃতি।
হয়তো আবার দেখা হবে।
হয়তো আরও দীর্ঘ সময় কথা হবে।
হয়তো কোনো একদিন রূপগঞ্জের মাটিতে দাঁড়িয়ে উন্নয়ন ও মানুষের স্বপ্ন নিয়ে আরও বিস্তৃত আলাপ হবে।
সেদিন হয়তো আজকের এই অল্প পরিচয় আরও গভীর হবে।
ততদিন ৬ সেপ্টেম্বরের সেই দুপুরটি আমার স্মৃতিতে থাকুক। মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ভাই, প্রথম দেখা ছিল হঠাৎ, কিন্তু স্মৃতিটা হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার নয়।
আপনার চোখে যে স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্নের রূপগঞ্জ একদিন আরও সুন্দর হোক। আবার দেখা হবে, দিপু ভাই।





