সত্যের সাথে সবসময়

Uncategorized সাব্বির হত্যা মামলার ২১ বছর পর রায়

সাব্বির হত্যা মামলার ২১ বছর পর রায়

newsraatdin24 _ সাব্বির হত্যা মামলার ২১ বছর পর রায়

জাকির খানসহ আটজন খালাস

নারায়ণগঞ্জের আদালত জাতীয় পার্টি (পার্থ) ও ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানসহ সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।বাদী তৈমুর আলম খন্দকার নাখোশ হয়ে ওই রায়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের বিচারক মো. মোমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী-২৫) দুপুরের আগে এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত সাব্বির আলম খন্দকার(৪৮) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকার আলহাজ্ব শাহআলম খন্দকারের মেঝো ছেলে।সাব্বির আলম খন্দকার বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ‘ র সাবেক সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জের চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি এবং জাতীয় পার্টির (পার্থ) জেলা সভাপতি ছিলেন। তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব।তার অপর ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও পৌরসভার একবার,সিটি কর্পোরেশনের তিন বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার আবুল কালাম এবং আজিজুল হক হান্টু বলেন, সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, এটা ছাত্রদল নেতা জাকির খানের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিল। যার কারণে বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে আদালত এই মামলায় সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, সাব্বির আলম ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নিয়ে লড়তে গিয়ে নিজের জীবন দিয়েছেন। অথচ এখন বিকেএমইএ’র যারা শীর্ষ নেতা রয়েছেন তারাই এই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঝুটের ব্যবসা করছেন। দেশের বর্তমান বিচার বিভাগ সবারই জানা। আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্টও রাজনৈতিক বিবেচনায় চলে।তিনি আরও বলেন, এখন আমরা ক্ষমতায় নাই, তাই এ নিয়ে চিন্তা করার কী আছে। তবে আমি দেখছি এটা নিয়ে আর কী করা যায়। আমি এর আগে একাধিকবার বলেছিলাম, সাব্বির হত্যার বিচার না হলে বাংলাদেশের আর কেউ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলবে না। যে রায় দেওয়া হলো আগামীতে মানুষ আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাবে না।

নারায়ণগঞ্জে অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালে সাব্বির আলম খন্দকার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনীকে অপরাধ দমনে চাপ সৃস্টি করেন।চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রি কার্যালয়ের প্রশাসন,আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনী ও ব্যবসয়িদের যৌথ সভায় সাব্বির আলম খন্দকার নিজের জানাযায় সবাইকে শরিক হবার আহবান জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছিলেন।তার ওই বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো।তার বক্তব্য তোলপাড় সৃস্টি করে।

ফতুল্লা থানার মাসদাইর রোকেয়া খন্দকার স্কুলের সামনে ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকারকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে।খানপুর হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মারা যান।ফতুল্লা থানায় হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির খানকে আসামী করা হয়।ওই মামলা দায়েরের ক’ দিন পর জাকির খান বাংলাদেশ ছেড়ে বিদেশ চলে যান।থাইল্যান্ড ও ইন্ডিয়ায় তিনি প্রায় ১৯ বছর অবস্হান করেন।এর মাঝে তিনি বেশ ক ‘বার বাংলাদেশেও ফিরেন এবং চলে যান।চাঞ্চল্যকর সাব্বির হত্যা মামলা নিয়ে অনেক ঘটনা ঘটে।মামলা দায়েরের পর মোট নয় জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

মামলাটি সর্বশেষ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)তে স্থানান্তর করা হয়।সিআইডির এএসপি মসিহউদ্দিন দশম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ৩৪ মাস তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে ৮ জনকে আসামি দেখিয়ে অভিযোগপত্র ( চার্জশীট) দাখিল করেন। একই সাথে মামলা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, তার শ্যালক জুয়েল ও শাহীনকে অব্যাহতি দেয়া হয়।অভিযোগপত্রে সাবেক জেলা ছাত্রদল সভাপতি জাকির খান, তার ভাই মামুন খান ও জিকু খান,সহযোগী নাজির হোসেন, মোক্তার হোসেন ও লিটন ওরফে জঙ্গইল্যা মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে বাচ্চু,মৃত মনিরুজ্জামান ওরফে শাহীনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়।আদালতে পরবর্তীতে জাকির খানের অনুপস্হিতিতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন ও বিচার কার্য শুরু হয়।রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির একটি ফ্ল্যাট থেকে ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে জাকির খানকে গ্রেফতার করে।আদালতে বাদী তৈমুর আলম খন্দকারসহ ৫২ জনের মধ্যে মোট একুশ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।আদালতে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারী দুপুরের আগে সাব্বির হত্যা মামলার রায় ঘোষনা হয়।রায়ে জাকির খান,তার ভাই মামুন খান ও জিকু খান এবং সহযোগী নাজির হোসেন,মোকতার হোসেন,লিটন ওরফে জঙ্গইল্যা,মৃত মনিরুজ্জামান ওরফে শাহীন,মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে বাচ্চুকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন