প্রতিবাদের ভাষা নেই।
আজ গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেটে দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। “চাঁদাবাজি” সংক্রান্ত একটি ফেসবুক লাইভ এবং সংবাদ প্রকাশই ছিল তার একমাত্র অপরাধ।
এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির নেতৃবৃন্দ। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন বলেন:
“এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিককে খুন করা নয়, বরং এটি মুক্ত সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর রক্তাক্ত আঘাত। সাংবাদিক তুহিন তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন— আর তাতেই জীবন দিতে হলো তাকে। এমন বর্বরতা সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।”
নেতারা আরও বলেন—
“সাংবাদিক তুহিন চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তার সাহসী ফেসবুক লাইভ এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই ছিল সন্ত্রাসীদের রোষানলের কারণ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শহীদ আবু সাইদ, শহীদ মীর মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিমরা যে আদর্শে জীবন দিয়েছেন— সেই আদর্শে আজ আবারও কলঙ্ক লেপন হলো। আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।”
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্ত সাংবাদিকতার পথ আরও রক্তাক্ত ও বিপন্ন হয়ে উঠছে— যা গণতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত।





